শ্রীমৎ স্বামী তারানন্দ মহাকালী যোগাশ্রম - মন্দির দর্শন

শ্রীমৎ স্বামী তারানন্দ মহাকালী যোগাশ্রম

অবস্থানঃ

জেলাঃ চট্টগ্রাম

উপজেলাঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

গ্রামঃ মোহরা (কালুরঘাঠ) চাদগাঁও

ইতিহাসঃ

কর্ণফুলী-হালদার মিলনস্থলে কালুরঘাট রেলসেতুর উওরপার্শ্বে কর্ণফুলী নদীর পাশে পরম যোগী মহাসাধক শ্রীমৎ স্বামী তারানন্দ পুরী মহারাজ ১৯৩৮ সালে চট্টগ্রাম জেলার চান্দগাঁও থানার মোহরায় একটি বিগ্রহ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। যা বর্তমানে তারানন্দ মহাকালী যোগাশ্রম নামে পরিচিত।

শ্রীমৎ স্বামী তারানন্দ পুরী মহারাজ (আর্বিভাবঃ ১২৫৭ বাংলা, ১৮৫০ ইংরেজী; তিরোধানঃ ১৩৫৬ বাংলা, ১৯৪৯ ইংরেজী) স্বপ্নে আদ্যশক্তি মহাকালী ও দেবাদীদেব মহাদেবের বিগ্রহ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৩৮ ইংরেজীতে (বাংলা ১৩৪৫ সনে)। অপূর্ব প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত এই যোগাশ্রম প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সুনির্দিষ্ট তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে আসছে।

প্রথমত, গুরুবাদের তীব্র আবর্তে বিক্ষিপ্ত সনাতনী সমাজকে বিশেষ করে যুব সম্প্রদায়কে বিস্মৃত যোগরত্ন “অষ্টাঙ্গ যোগের” আলোকে দীপ্ত করে চরিত্রবান করা এবং শক্তিশালী সনাতনী সমাজ বিনির্মাণ করা। স্বামী তারানন্দ মহারাজের মূল লক্ষ্য ছিলো চরিত্রবান জনগোষ্ঠীর সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষকে দেবত্বে উন্নতি করা এবং  মুক্তির পথ দেখানো। আশ্রমের মূল মনোগ্রামে এই লক্ষ্য এবং আর্দশ প্রতিফলিত হয়েছে “চরিএ-দেবত্ব-মুক্তি”। স্বামীজীর আর্বিভাব এবং তিরোধান দিবস ও অত্যান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শিব চর্তুদশীর দিন আর্বিভাব এবং অনন্ত চর্তুদশীর পবিত্র দিন তিরোধান। বর্তমানে এই দুই পূর্ণ্য তিথিতে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দের অংশগ্রহণে আশ্রমে অষ্টপ্রহরব্যাপী নামসংকীতন, গীতাযজ্ঞ সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়।এ ছাড়া ও বিভিন্ন তিথিতে পূণ্য স্নান, ভোগ, অন্নপ্রাশন, শ্রাদ্ধশান্তি ইত্যাদি কর্মকান্ডে সহায়তা প্রদান করা হয়।সরকারী সহায়তায় কর্ণফুলীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য রক্ষাবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে যা আশ্রমের সৌন্দর্যকে বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে। আরও একটি রক্ষাবাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে যা বাস্তবায়ন হলে এই প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় কর্মকান্ডের পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। ইতিমধ্যেই অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন বিগ্রহ মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যা অত্র এলাকার সনাতনী সমাজের একটি গৌরব। বর্তমান অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে শ্রীমৎ স্বামী গিরিজানন্দপুরী মহারাজ, উপাধ্যক্ষ  শ্রীমৎ স্বামী সানন্দ ব্রক্ষচারী, সভাপতি শ্রী রেবতী মোহন নাথ এবং সাধারণ সম্পাদক শ্রী দীপক দেওয়ানজীর নেতৃত্বে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী কার্যকর কমিটি আশ্রমের সকল কর্মকান্ডে অধ্যক্ষকে সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছেন। ইতিপূর্বে যুদ্ধ বির্ধস্থ আশ্রমকে পুনরায় গঠনে আশ্রমের প্রাক্তন অধ্যক্ষ শ্রীমৎ জগতানন্দ ব্রক্ষচারী, শ্রীমৎ প্রেমানন্দ ব্রক্ষচারী, শ্রীমৎ বিমলানন্দ অবদান স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। পরর্তীতে আশ্রমকে বর্তমান পর্যায়ে আনার জন্য দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন স্বামীজীর মানস কন্যা প্রাক্তন অধ্যক্ষ শ্রী শ্রী অন্নপূর্ণা ব্রক্ষচারিণী। আশ্রমের সার্বিক উন্নয়নে মা অন্নপূর্ণার আজীবন নিবেদন ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে। আশ্রমে শ্রী সুধাম চন্দ্র ধর (সুনীল) শিব-কালী মন্দিরটি ভক্ত বৃন্দের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন ২০১০ সালে। এছাড়া এখানে একটি সীতা-রাম মন্দির আছে, যেটি ২০১০ সালে উৎসর্গ করেছিলেন শ্রী রেবতী মোহন নাথ।

১৯৭১ সালের বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যুদ্ধপরবর্তী সময়ে তৎকালীন মন্দিরের অধ্যক্ষ জগতানন্দ পুরী মহারাজ মন্দিরের জন্য অনেক পরিশ্রম করেন। প্রেমানন্দ পুরী মহারাজ ও বিমলাপুরী মহারাজ এই আশ্রমের জন্য অকান্ত পরিশ্রম করেন । তাদের কথা আজ ও আমরা শ্রদ্ধা সাথে স্মরণ করি।

জেলা শহর থেকে মন্দিরে পৌঁছানোর উপায়ঃ

চট্টগ্রামের সিটি গেইট থেকে এ. কে. খান রোড এর মোড়ে এসে অথবা অলংকার মোড়ে এসে সি এন জি যোগে সরাসরি শ্রীমৎ স্বামী তারানন্দ মহাকালী যোগাশ্রম পোঁছে যাবেন, ভাড়া প্রায় ৩০০-৩৫০ টাকা পড়বে। অথবা,এ. কে. খান রোড এর মোড়ে থেকে ৪ নং বা ৭ নং লোকাল বাসে করে প্রথমে নিউ মার্কেট মোড়ে নামতে হবে। নিউ মার্কেট মোড় হতে ১ নং বাস যোগে কালুরঘাঠ বাস স্ট্যান্ড। কালুরঘাঠ বাস স্ট্যান্ড হতে উত্তর দিকে ৫ মিনিট পায়ে হেটে শ্রীমৎ স্বামী তারানন্দ মহাকালী যোগাশ্রম ।

Puthia Shiv

পুঠিয়া বড় শিব মন্দির

পুঠিয়া বড় শিব মন্দির অবস্থানঃ জেলাঃ রাজশাহীউপজেলাঃ পুঠিয়াগ্রামঃ পুঠিয়ারাজশাহী শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিখ্যাত পুঠিয়া রাজবাড়ি দিকে এগোতে

govind and durga mata mandir

শ্রী শ্রী গোবিন্দ ও

শ্রী শ্রী গোবিন্দ ও দুর্গামাতা মন্দির অবস্থানঃ জেলাঃ রাজশাহী উপজেলাঃ বাগমারা রাজা কংস নারায়ণ রায় বাহাদুর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শ্রী শ্রী

শ্রী শ্রী হান্ডিয়াল জগন্নাথ

শ্রী শ্রী হান্ডিয়াল জগন্নাথ মন্দির অবস্থান:জেলাঃ পাবনাউপজেলাঃ চাটমোহর উপজেলা সদরের ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণ দিকে এর অবস্থান।গ্রামঃ হান্ডিয়ালইতিহাস:ত্রয়োদশ-চতুর্দশ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের অন্যতম

Spread this post
Translate »
error: Content is protected !!