শ্রী শ্রী রাউজান জগৎপুর আশ্রম - মন্দির দর্শন

শ্রী শ্রী রাউজান জগৎপুর আশ্রম

অবস্থানঃ

জেলাঃ চট্টগ্রাম

উপজেলাঃ রাউজান

রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সীমান্তবর্তী চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক থেকে উত্তর দিকে এবং চুয়েট ও রাউজান তাপবিদ্যুৎ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।

ইতিহাসঃ

বাল্যকাল হতেই স্বামী পূর্ণানন্দ পরমহংসদেব বালক-বালিকাদের ব্রহ্মচর্য্য পালন করার তত্ত্বজ্ঞানের উপদেশ দিতেন। পূর্ণানন্দ পরমহংসদেব সবস্ম্য বলতেন “প্রকৃত সাধন-স্পৃহা নিয়ে জীব জগতে না আসলে পুনরায় ভারত উদ্ধার হবে না, লোভ ও কামের বশবর্ত্তী জীব দ্বারা উৎপন্ন সন্তান, লোভ ও কামেরই বশবর্ত্তী হবে, এটাই স্বাভাবিক নিয়ম।” চট্টগ্রামের রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সীমান্তবর্তী চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক থেকে প্রায় ১৬ মাইল উত্তর দিকে ১৩০৬ বঙ্গাব্দের (১৮৯৯ ইং) ৩ই বৈশাখ স্বামী পূর্ণানন্দ পরমহংসদেব “জগৎপুর আশ্রম” প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেই সঙ্গে একটি সংস্কৃত টোলও স্থাপিত করেন। রাউজানের এই জগৎপুর আশ্রমে যখন নারীগণের জন্য সংস্কৃত শিক্ষা প্রবর্ত্তিত হয়েছিলো, তখন পর্যন্ত বাংলাদেশে কেউই দেশীয় আবহাওয়ার মধ্যে দেশীয় প্রণালীতে নারীদের জন্য উচ্চশিক্ষার কল্পনাও করেন নি। স্বামী পূর্ণানন্দ পরমহংসদেবই বাংলাদেশে এরকম শিক্ষা প্রচলনের প্রথম প্রদর্শক। এই আশ্রম হতে শ্রীমতি বাসন্তী সাংখ্য-বেদান্ততীর্থা, শ্রীমতি যোগশ্বরী সরস্বতী, শ্রীমতি প্রতিভা সাংখ্য-শাস্ত্রী প্রভৃতি বহু ছাত্রী এবং বহু ছাত্র কৃতিত্বের সহিত উপাধি পরীক্ষায় পাশ করে জগৎপুর আশ্রমস্থ টোলের মুখোজ্জ্বল করেছেন।২০১৭ সালের ৩ই এপ্রিল (বাংলা ২০শে চৈত্র, ১৪২৩) পরমগুরু শ্রীমদ স্বামী পূর্ণানন্দ পরমহংসদেব প্রতিষ্ঠিত শ্রী শ্রী রাজরাজেশ্বর শিব বিগ্রহের পুঃননির্মিত মন্দিরের দ্বারোদঘাটন করেন পরম পূজ্যপাদ আশ্রমগুরু শ্রীমদ স্বামী গুরুপ্রসাদজী পরমহংস।

৪ একর ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই আশ্রমে বর্তমানে শতাধিক অনাথ ছেলেমেয়েও আশ্রয় পেয়েছে। তার মধ্যে উপজাতি অনাথ ছেলেমেয়েও আছে প্রায় অর্ধশত। এখান থেকেই তাদেরকে পড়াশোনা করার জন্য জগৎপুর আশ্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পার্শ্ববর্তী উনসত্তর পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করে দেয়া হয়। তাদের শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ যাবতীয় ব্যয়ভার আশ্রম থেকে বহন করা হয়। এখানে রয়েছে লাইব্রেরী ও খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, মেয়েদের জন্য রয়েছে নৃত্যকলার মহিলা শিক্ষিকা। নিজস্ব পুকুরে মাছ চাষ ও আশ্রমের জমিতে শাক-সবজি এবং ফলমূলের চাষাবাদ করে উৎপাদিত পণ্যে আশ্রমের শিশুদের খাওয়ানো হয়। অনাথ আশ্রমটি ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের নিবন্ধনভুক্ত পর প্রতিমাসে সরকারি অনুদান আসে। সরকারি অনুদানের টাকাসহ আশ্রম পরিচালনা কমিটি এবং দানশীল ব্যক্তিদের অনুদানের টাকায় আশ্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

স্বামী পূর্ণানন্দের বিশ্ব-মৈত্রীর পরিচয় তাঁর আশ্রম জীবনে পাওয়া যায়। তাঁর আশ্রমের দ্বার জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সকলের জন্যই উন্মুক্ত ছিল। আগন্তুক ও অতিথিগণ সকলেই তাঁর আদর অভ্যর্থনা ও অমায়িক ব্যবহারে মুগ্ধ হতেন।

জেলা শহর হতে যাওয়ার উপায়:

চট্টগ্রাম শহরের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে রাংগুনিয়াগামী বাসযোগে প্রায় ৫০-৬০ টাকায় কাপ্তাই মহাসড়কে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ফেলে চট্টগ্রাম বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান গেইটের সামনে নামে রাস্তার অপর পাশে জগৎপুর আশ্রমের গেইট দেখা যাবে। তারপর সেই গেইটের রাস্তা দিয়ে পাহাড়ি আঁকা বাঁকা পথ পেরিয়ে আশ্রমে পৌছানো যায়।

এছাড়া সিএনজি করেও বহদ্দারহাট বা কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে ৫০-৭০ টাকায় সরাসরি আশ্রমে যাওয়া যায়।

Chinishpur temple

শ্রী শ্রী চিনিশপুর কালী

শ্রী শ্রী চিনিশপুর কালী মন্দির অবস্থানঃ জেলাঃ নরসিংদী   উপজেলাঃ নরসিংদী সদর   গ্রামঃ চিনিশপুর ইতিহাসঃ বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি

Radhachad mandir

শ্রী শ্রী রাধাকালাচাঁদ বিগ্রহ

শ্রী শ্রী রাধাকালাচাঁদ বিগ্রহ মন্দির অবস্থানঃ জেলাঃ টাংগাইল উপজেলাঃ মির্জাপুর জামুর্কি ইউনিয়নের পাকুল্লা নামক গ্রামে অবস্থিত। ইতিহাসঃ ১১৯৫ বঙ্গাব্দে টাংগাইলের

sonarang jora moth

সোনারং জোড়া মঠ ও

সোনারং জোড়া মঠ ও শ্যামসিদ্ধির মঠ অবস্থানঃজেলাঃ মুন্সীগঞ্জউপজেলাঃ টংগীবাড়িকালজয়ী বাঙালি সত্যেন সেনের সোনারং গ্রামে অবস্থিত।ইতিহাসঃবাংলাদেশের অষ্টাদশ শতাব্দীর একটি প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন

বারদী লোকনাথ আশ্রম

বারদী লোকনাথ আশ্রম জেলাঃ  নারায়ণগঞ্জউপজেলাঃ  সোনারগাঁইউনিয়নঃ  বারদী অবস্থানঃ বারদী বাজারের পশ্চিম-উত্তর কোণে গুরু ভগবান গাঙ্গুলীর দেহত্যাগের আগে বাবা লোকনাথ ও

Spread this post
Translate »
error: Content is protected !!