এগারো শিব মন্দির - মন্দির দর্শন

এগারো শিব মন্দির

অবস্থানঃ

জেলাঃ যশোর

উপজেলাঃ অভয়নগর

গ্রামঃ অভয়নগর

ইতিহাসঃ

প্রতাপশালী যশোর রাজ্যের রাজা প্রতাপাদিত্য মুঘল শাসন আমলে মুঘলদের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত ও বন্দী হয়েছিলেন। রাজ্যহারা হয়ে দিকভ্রষ্ট রাজপরিবার জ্ঞানান্বেষণে এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিলেন। রাজপরিবারের একজন সদস্য কোনমতে ঠাঁই নিয়েছিলেন যশোরের চাঁচড়া অঞ্চলে এবং সেই পরিবারের উত্তরপুরুষ হিসেবে ছিলেন রাজা নীলকণ্ঠ রায়। পরবর্তীতে নিজের ভাগ্য ফিরিয়েছিলেন অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধার মাধ্যমে, ধন-দৌলত, শক্তি-সামর্থ সবই আদায় করে নিয়েছিলেন। রাজা নীলকণ্ঠ রায়ের ঘর আলো করে জন্ম নিয়েছিলো এক কন্যাসন্তান, রাজা কন্যার নাম রাখলেন অভয়া। দুর্ভেদ্য সুন্দরবন, শত শত নদ-নদী আর খাল-বিলের সুযোগ নিয়ে বাংলায় সেইসময় দুর্ধর্ষ হার্মাদ জলদস্যুরা এলাকার মানুষের উপর পাশবিক নির্যাতন চালাতো, লুট করত ধনসম্পদ সেই সাথে দাস হিসেবে বিক্রি করত নারী ও শিশুদের। রাজা এসব দুর্ধর্ষ হার্মাদ জলদস্যুদের দমন করার জন্য ভৈরব নদের তীরে ভাটপাড়ার পাশেই দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন এবং সপরিবারে স্থানান্তরিত হলেন রাজধানী চাঁচড়া থেকে। রাজকন্যা অভয়া বেড়ে উঠতে লাগলো এবং প্রাপ্তবয়স্কা হলে রাজা কন্যার বিয়ে ঠিক করেন নীলাম্বর রায়ের সাথে ,যিনি ছিলেন সেই সময়ের প্রভাবশালী ‘জমিদার নড়াইল’ জমিদার এর পুত্র। কিন্তু অদৃষ্টের পরিহাসে বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নীলাম্বর রায়। অল্প বয়সে বিধবা হয়ে রাজকন্যা অভয়া অনুরোধ করলেন তাঁর পিতার কাছে যে, সে তার বাকি জীবন মহাদেবের আরাধনা কাটিয়ে দিতে চান। রাজকন্যা অভয়ার অনুরোধে নীলকন্ঠ রায় রাজবাড়ির সন্নিকটে মেয়ের জন্য মন্দির নির্মাণ করেন ১১টি শিব মন্দির প্রায় ৬০ একর জায়গা জুড়ে, মেয়ের নামানুসারে নগরের নাম রাখা হয় অভয়ানগর। কালক্রমে এই নগরের পরিচয় হয়েছে অভয়নগর নামে। ভৈরব নদের তীরে অবস্থিত এগারো শিব মন্দিরের মতো একসঙ্গে এতগুলো শিব মন্দির বাংলাদেশে আর কোথাও নেই।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুযায়ী, আনুমানিক অষ্টাদশ শতকে মন্দিরগুচ্ছটি চাঁচড়া জমিদার পরিবারের সদস্য রাজা নীলকণ্ঠ রায় নির্মাণ করেছিলেন। কিন্ত ইতিহাস অনুযায়ী মন্দিরগুলোর বয়স প্রায় তিনশ বছরের বেশী, ১৭৪৫-১৭৬৪ সালের মধ্যে এই ১১ শিবমন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিলো।

স্থাপত্যসমূহ নির্মাণে বৃটিশ আমলে অনুসৃত চুন-সুরকি ও ইট ব্যবহার করা হয়েছে। ইটের আকৃতি পাতলা ও বর্গাকার। বন্ডিং ম্যাটেরিয়াল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে চুন-সুরকি। পূর্ব ও পশ্চিম দুই সারিতে চারটি করে মোট আটটি বর্গাকাকৃতির মন্দির রয়েছে। দক্ষিণ দিকে রয়েছে দুইটি মন্দির। প্রত্যেকটি মন্দির মাঝখানের উঠানের দিকে মুখ করে দাঁড়ানো। প্রতিটি মন্দিরে প্রবেশের জন্য রয়েছে খিলানাকৃতির প্রবেশপথ ও উপ-প্রবেশপথ, বাঁকানো কার্ণিস ও কোণাকৃতির কর্নার। আর দেয়ালে আস্তরণ দেখা যায়। পদ্মাকৃতির মেডালিয়ন অলংকরণ রয়েছে প্রবেশ পথের উপর। মন্দির গুচ্ছের উত্তর দিকে রয়েছে বড় একটি মন্দির যা দক্ষিণমুখী, এর পরিমাপ ৮.০২ মিটার, ৬.৫৭ মিটার এবং গর্ভগৃহের পরিমাপ ২.৩০ মিটার। মন্দির সবগুলো খিলান পয়েন্টেড এবং আয়তকার প্যানেল ফ্রেমের মধ্যে নির্মিত। মন্দিরগুলো স্থানীয় প্রচলিত শিল্পরীতিতেই নির্মিত। ছাদগুলো নির্মিত হয়েছে উলম্ব ধরণের ডোমের সমন্বয়ে। অর্থাৎ ভেতরে গোলাকার এবং বাইরের দিকে চালা রীতিতে নির্মিত। সবগুলো মন্দিরের নির্মাণে স্থানীয় নির্মাণ কাজের দক্ষতা প্রতিফলিত হতে দেখা যায়। বর্তমানে মন্দিরগুচ্ছটি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত একটি পুরাকীর্তি।

বর্তমানে অযত্নে-অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলীন হয়ে যাচ্ছে প্রায় তিনশত বছরের পুরনো এই ১১ শিবমন্দির। ভৈরব নদের পাড়ে অবস্থিত মন্দির এলাকার বেশ কিছু জায়গা-জমি ইতিমধ্যে দখল হয়ে গেছে, চুরি আর লুটপাট হয়ে গেছে মন্দিরের প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন শিবলিঙ্গসহ মূল্যবান সব অলংকারসমূহ। এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জোড়া তালি দিয়ে কোনমতে নিত্য পুজা দিয়ে আসলেও, যেকোনো সময়েই এই মন্দির ধ্বসে পড়তে পারে বলে আশংকা পূজারীদের।

জেলা শহর হতে যাওয়ার উপায়ঃ

যশোর শহর থেকে খুলনার দিকে যেতে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দুরে ভৈরব নদের উত্তর পাড়ে অবস্থিত এই অভয়নগর গ্রাম। জে জে আই (যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ) মিল ঘাট পার হয়ে ভৈরব নদের পাড় হয়েই অভয়নগর গ্রামেই অবস্থিত এই ১১ শিবমন্দির।খুলনা থেকে যেতে চাইলে প্রথমে যশোরগামী যেকোনো বাসে উঠে রাজঘাট বাস স্ট্যান্ডে আসতে হবে। অথবা খুলনা থেকে মাহেন্দ্রা করে যেতে চাইলে প্রথমে আপনাকে ফুলতলা বাস স্ট্যান্ডে নামতে হবে ভাড়া পড়বে প্রতিজন ৪০-৪৫ টাকা, এরপর ফুলতলা বাস স্ট্যান্ড থেকে মাহেন্দ্রা করে ১০ টাকা ভাড়ায় নামতে হবে রাজঘাট বাস স্ট্যান্ডে। রাজঘাট বাস স্ট্যান্ড থেকে (যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ) ভ্যান এ করে ভৈরব নদীর ঘাটে যেতে হবে, ভাড়া পড়বে জন প্রতি ৫ টাকা । খেয়ায় করে ভৈরব নদী পার হতে হবে, ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ২ টাকা । এর পর নদী পার হয়ে ৩-৪ মিনিট হাঁটলেই চোখে পড়বে ১১ শিব মন্দিরটি।

Ugratara temple

শিকারপুর উগ্রতাঁরা মন্দির

সুনন্দা, ভৈরব, ত্রম্ব্যক, শিব, উগ্রতাঁরা দুর্গা ও কালী মন্দির অবস্থানঃ জেলাঃ বরিশাল।  উপজেলাঃ উজিরপুর।  গ্রামঃ মুন্ডপাশা পোস্ট অফিসঃ শিকারপুর, তারাবাড়ী।

shitala temple

শ্রী শ্রী কালী ও

শ্রী শ্রী কালী ও শীতলা মাতার মন্দির অবস্থানঃ জেলাঃ বরিশাল। উপজেলাঃ বরিশাল সদর। অবস্থানঃ অমৃত লাল দে সড়ক, রায় রোড, বরিশাল সিটি

barthi tara temple

বার্থী শ্রী শ্রী তারা

বার্থী শ্রী শ্রী তারা মায়ের মন্দির অবস্থানঃ জেলাঃ বরিশাল। উপজেলাঃ গৌরনদী। অবস্থানঃ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক।     ইতিহাসঃ ধারনা করা হয়

mukunda das kalibari temple

চারণ কবি মুকুন্দ দাস

চারণ কবি মুকুন্দ দাস প্রতিষ্ঠিত কালী মন্দির অবস্থানঃজেলাঃ বরিশাল। উপজেলাঃ বরিশাল সদর। নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিআরটিসি বাসের ডিপোর পাশে।ইতিহাসঃ১৯১৬ সালে চারণ সম্রাট

Barishal mohasasman

বরিশাল মহাশ্মশান

বরিশাল মহাশ্মশান অবস্থানঃজেলাঃ বরিশালউপজেলাঃ বরিশাল সদরইতিহাসঃ বরিশালের ইতিহাস ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক - উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ শ্মশান "বরিশাল মহাশ্মশান"। বরিশাল শহরের প্রাণকেন্দ্র

barisal ramkrishna mission

বরিশাল রামকৃষ্ণ মিশন

বরিশাল রামকৃষ্ণ মিশন অবস্থানঃজেলাঃ বরিশালউপজেলাঃ বরিশাল সদরইতিহাসঃশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের  আদর্শ প্রচারের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রধান শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৯৭ সালে গড়ে তোলেন

tarabari temple nalchity

শ্রীশ্রী তাঁরাবাড়ি মন্দির

শ্রীশ্রী তাঁরাবাড়ি মন্দির অবস্থানঃজেলাঃ ঝালকাঠি।উপজেলাঃ নলছিটি।এলাকাঃ হাসপাতাল রোড।ইতিহাসঃনলছিটির প্রাচীন নির্দশনগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো শ্রীশ্রী তাঁরা মন্দির। জনশ্রুতিমতে, রাজা রাজবল্লভের

mahilara Sarkar math

সরকার মঠ বা মাহিলাড়া

সরকার মঠ বা মাহিলাড়া সরকার মঠ অবস্থানঃজেলাঃ বরিশালউপজেলাঃ গৌরনদী"মাহিলাড়া সরকার মঠ" মাহিলাড়া গ্রামে অবস্থিত, যা বরিশাল বিভাগের গৌরনদী উপজেলার অন্তর্গত।ইতিহাসঃসরকার মঠটি ১৭৪০-১৭৫৬ সালের

shankar math barisal

শ্রী শ্রী শংকর মঠ

শ্রী শ্রী শংকর মঠ অবস্থানঃজেলাঃ বরিশালগ্রামঃ নতুন বাজারইতিহাসঃনগরীর প্রাণকেন্দ্র বিএম কলেজ রোডে নানা উত্থান-পতনের মধ্যদিয়ে বরিশালে ব্রিটিশ আমল থেকেই শ্রী

Spread this post
Translate »
error: Content is protected !!