শিকারপুর উগ্রতাঁরা মন্দির - মন্দির দর্শন

শিকারপুর উগ্রতাঁরা মন্দির

অবস্থানঃ

জেলাঃ বরিশাল। 

উপজেলাঃ উজিরপুর। 

গ্রামঃ মুন্ডপাশা

পোস্ট অফিসঃ শিকারপুর, তারাবাড়ী।

ইতিহাসঃ

উপমহাদেশের ৫১টি সতীপীঠের একটি উল্লেখযোগ্য সতীপীঠ হল বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর গ্রামের উগ্রতারা মন্দির। এটি বরিশাল জেলা শহর থেকে ২৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই পীঠের দেবী সুনন্দা এখানে উগ্রতারা রুপে পূজিত হন। এই স্থানে সতীদেবীর নাসিকা পরেছিল। এই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সুনন্দা এবং ভৈরব ত্রম্ব্যক হিসেবে পরিচিত। তন্ত্রচূড়ামনি ও পীঠনির্ণয় অনুযায়ী এটি ৫১ সতীপীঠের তৃতীয় সতীপীঠ। আবার শিবচরিত নামে অন্য একটি গ্রন্থে এটিকে ষষ্ঠ সতীপীঠ বলে মনে করা হয়।ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে লেখা আছে –

“সুগন্ধায় নাসিকা পড়িল চক্রহতা ।

ত্র্যম্বক ভৈরব তাহে সুনন্দা দেবতা ।।”

 

বহুকাল আগে পবিত্র সুগন্ধা নদীর গতিপথ ছিল বাংলাদেশের পানোবালিয়া ও সামরাইলের পার্শ্ববর্তী কোন এক স্থান দিয়ে। বর্তমানে সেই নদী স্রোত হারিয়ে ক্ষীন স্রোতার হয়ে গেছে। এখন সেটাকে সন্ধ্যা নদী নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এর অন্যপাড়েই অবস্থিত শিকারপুর গ্রাম।

লোকমুখে শোনা যায় যে, শিকারপুর গ্রামে বিত্তশালী জমিদার শ্রী রামভদ্র রায় বসবাস করতেন। অনেক প্রাচীন এই জায়গাটি ছিল জংগলে পরিপূর্ণ আর অনেক হিংস্র প্রাণীর আবাসস্থল ছিল। একরাতে জমিদার স্বপ্নে দেখতে পান কোন এক ত্রিশূলধারী যোগীপুরুষ তাকে বলছেন যে তিনি সামরাইলের জংগলে একটা ঢিপির মধ্যে আছেন, এবং তাকে উদ্ধার করালে জমিদারের মংগল হবে। তারপরের দিন লোকজন নিয়ে রামভদ্র সেই স্থানে খোজ শুরু করে দিলেন। তাদের দেখে একদল রাখাল বালক ভয় পেলে রামভদ্র তাদেরকে আশ্বস্ত করে বললেন যে তারা সেখানে এক অলৌকিক ঢিপির খোজে এসেছেন। তখন রাখালরা ওই রকম একটা ঢিপির খোজ রামভদ্রকে দিয়ে বলল যে তাদের গরুগুলো নাকি আগের মত দুধ দিচ্ছিল না। এজন্য তাদের মালিক সন্দেহ করেছিল রাখাল ছেলেগুলো হয়তো দুধ চুরি করছে। তাই একদিন তাদের মালিক গরুগুলোর পিছু পিছু জঙলে গিয়ে দেখে একটি উঁচু ঢিপির উপর গরুগুলো দাঁড়িয়ে তাদের বাট থেকে দুধ দিচ্ছে। এমন দৃশ্য দেখে ওই ঢিপিতে কি আছে সেটা জানার জন্য তিনি জংগলের শুকনো কাঠপাতা জোগাড় করে ঢিপিতে আগুন ধরিয়ে দিলেন। এরপর হঠাৎ তিনি দেখলেন আগুনের ভিতর থেকে এক শ্যামবর্ণা নারী দৌড়ে বেড়িয়ে এসে পাশের জলাশয়ে ঝাঁপ দিলেন। এইরকম গল্প শোনার পর, রামভদ্র তার লোকেদের আদেশ দিলেন ওই ঢিপিটা খুঁড়তে। খোঁড়ার পর ওই ঢিপির নিচ থেকে একটা শিবলিঙ্গ উদ্ধার হয় কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও শিবলিঙ্গটিকে সেখান থেকে অন্যজায়গায় সরানো সম্ভব হচ্ছিল না। ওইদিন রাতে রামভদ্রে আবার স্বপ্নে দেখেন, মহাদের তাকে আদেশ করছেন ওই স্থানেই যেন শিবলিঙ্গটি প্রতিষ্ঠা করে পুজার ব্যবস্থা করা হয় আর সেটার মাথার উপর যেন কোন আচ্ছাদন না রাখা হয়। রামভদ্র ভোলানাথের আদেশমত তাই করে দিলেন।

ওইদিন রাতেই শিকারপুর গ্রামের সৎ নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মন পঞ্চানন চক্রবর্তী স্বপ্নে দেখেন মহাকালী তাকে বলছে, “আমি সুগন্ধার গর্ভে শিলারুপে বিরাজ করছি। তুই সেখান থেকে আমাকে তুলে পুজার ব্যবস্থা কর।” পরদিন ভোরেই পঞ্চানন চক্রবর্তী নদীতে নেমে প্রথমে কষ্টি পাথরের শিবমূর্তি ও পরে দেবী পাষাণ বিগ্রহ উদ্ধার করেন। এরপর চারিদিকে এই সংবাদ প্রচার হওয়ার পর তখনকার রাজা দেবীর জন্য কংক্রিটের একটি মন্দির তৈরি করে দেন। সেই থেকেই এ মন্দিরে দেবী অধিষ্ঠিত আছেন। এটি তারাবাড়ি নামেও পরিচিতি আছে। কালক্রমে দেবীর প্রাচীন মূর্তিটি নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। দেবী সতীর পাথরের দেহাংশটিরও কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে উগ্রতারার যে মূর্তি মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত আছে সেটা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে নানা মতভেদ আছে। শায়িত মহাদেবের উপর স্থাপিত দেবীমা, দেবীর উপরিভাগে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, কার্তিক ও গনেশের মূর্তি ছোট আকারে রয়েছে। বৌদ্ধধর্মের পঞ্চধ্যানী মূর্তির কথা স্মরন করিয়ে দেয় এই পাঁচ দেবতার মূর্তি। তাই এই মূর্তি বৌদ্ধতন্ত্রের দেবীর ধাঁচে নির্মিত বলে অনেক ঐতিহাসিকগণের ধারণা।

চতুর্ভুজা দেবীর উপরের দুহাতে রয়েছে খড়গ ও খেটক (ভোজালিজাতীয় অস্ত্র), নিচের ডান হাতে নীলপদ্ম ও বাম হাতে নরকরোটি। দেবী শবরূপ শিবের উপর দন্ডায়মান। এই সতীপীঠের পীঠদেবী সুনন্দা, পীঠভৈরব ত্র্যম্বক এবং দেহাংশ সতীর নাসিকা।

শিকারপুরের এই পীঠস্থান দর্শন করতে দেশ বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত আসেন। আশির দশকের দিকে উজিরপুরের মাহার গ্রামের বাসিন্দা ডাঃ পীযুষ কান্তি দাশ একরাতে স্বপ্নে দেখেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব সন্ধ্যা নদী থেকে উঠে এসে তাকে আদেশ করছেন ” কোথায় যাচ্ছ তুমি? আমিতো এখানেই আছি। আমাকে প্রতিষ্ঠা কর।” পরদিন ডাঃ পীযূষ তাড়াতাড়ি একজন প্রকৌশলী ডেকে এনে একটি নকশা তৈরি করে সেই প্রথম মন্দির উন্নয়নের কাজে হাত দেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে সম্মিলিতভাবে মন্দিরটি পুননির্মানের উদ্দ্যোগ নেন অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক এড. বলরাম পোদ্দার, ডা: পীযূষ কান্তি দাস ও শ্রীমতি শিপ্রা দাস এবং মন্দিরটির কাজ সমাপ্ত করা হয়েছিলো ২০২০ সালে। নবনির্মিত মন্দির উদ্বোধন ও দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয় ৫ মার্চ, ২০২০ সালে।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত কষ্টিপাথরের দেবীমূর্তির দুই চোখ ও মাথার মুকুটটি সোনার। একটি দূর্গামন্দির ও লোকনাথ বাবার মন্দির ও রয়েছে এই উগ্রতারা দেবীর মন্দিরের পাশে।

জেলা শহর থেকে মন্দিরে পৌঁছানোর উপায়ঃ

বরিশাল শহরের নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রথমে বাসে করে সরাসরি উজিরপুর ইচলাদী বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে, দূরত্ব প্রায় ১৯ কিলোমিটার। ইচলাদী বাসস্ট্যান্ড থেকে রিক্সা বা লোকাল সিএনজি করে সরাসরি উগ্রতাঁরা মন্দির বা তারাবাড়ি পৌঁছে যাবেন।

Chintahari Sadhanpith Jogashram

শ্রী শ্রী চিন্তাহারী সাধনপীঠ

শ্রী শ্রী চিন্তাহারী সাধনপীঠ যোগাশ্রম অবস্থানঃ জেলাঃ চট্টগ্রামউপজেলাঃ বাঁশখালীঅবস্থানঃ জঙ্গলজলদিইতিহাসঃবাঁশখালী উপজেলার জঙ্গলজলদি একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। সেই স্থানটি হিংস্র বন্যপ্রাণী ও

Yogaahsrom swami tarananda mohakali

শ্রীমৎ স্বামী তারানন্দ মহাকালী

শ্রীমৎ স্বামী তারানন্দ মহাকালী যোগাশ্রম অবস্থানঃজেলাঃ চট্টগ্রামউপজেলাঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনগ্রামঃ মোহরা (কালুরঘাঠ) চাদগাঁওইতিহাসঃকর্ণফুলী-হালদার মিলনস্থলে কালুরঘাট রেলসেতুর উওরপার্শ্বে কর্ণফুলী নদীর পাশে

Chandranath temple

শ্রী শ্রী চন্দ্রনাথ ধাম

শ্রী শ্রী চন্দ্রনাথ ধাম অবস্থানঃ জেলাঃ চট্টগ্রামউপজেলাঃ সীতাকুণ্ডগ্রামঃচন্দ্রনাথ পাহাড়ের অবস্থান চট্টগ্রাম জেলা শহর থেকে ৩৭ কিলোমিটার উত্তরে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

Ulta Kali

পাতালপুরী উল্টা কালী বাড়ি

শ্রী শ্রী পাতাল পুরী উল্টা কালী বাড়ি অবস্থানঃ জেলাঃ চট্টগ্রাম উপজেলাঃ সীতাকুণ্ড এলাকাঃ চন্দ্রনাথ ধাম। এই চন্দ্রনাথ পাহাড়টি চট্টগ্রাম শহর

Tulshidham

ব্রহ্মনির্বাণ তীর্থ শ্রী শ্রী

ব্রহ্মনির্বাণ তীর্থ শ্রী শ্রী তুলসীধাম অবস্থানঃ জেলাঃ চট্টগ্রাম নন্দনকানন,চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনইতিহাসঃমোগল বাহিনীর হিন্দীভাষী রামভক্ত হিন্দুস্থানী সৈনিকদের আরাধনাস্থল হিসাবে ১৭২০ খ্রিস্টাব্দে মহাত্মা

Taracharan ashram

মহাতীর্থ শ্রীশ্রী সাধুবাবা তারাচরণ

মহাতীর্থ শ্রীশ্রী সাধুবাবা তারাচরণ সিদ্ধাশ্রম অবস্থানঃ জেলাঃ চট্টগ্রাম   উপজেলাঃ পটিয়া গ্রামঃ ধলঘাট ইতিহাস: পটিয়া তথা দক্ষিন চট্টগ্রামের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী

Bura Kali Ma

শ্রী শ্রী বুড়াকালী মায়ের

শ্রী শ্রী বুড়াকালী মায়ের বিগ্রহ মন্দির অবস্থান: জেলাঃ চট্টগ্রাম   উপজেলাঃ পটিয়া গ্রামঃ ধলঘাট ইতিহাস: চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার ধলঘাট

kalachand thakur

শ্রী শ্রী কাঁলাচাদ ঠাকুরবাড়ী

শ্রী শ্রী কাঁলাচাদ ঠাকুরবাড়ী অবস্থানঃ জেলাঃ চট্টগ্রাম উপজেলাঃ বোয়ালখালী কানুনগোপাড়া গ্রামে অবস্থিত। ইতিহাসঃ ‘শ্রীশ্রী লক্ষ্মী-জনার্ধন বাসুদেব’ কালাচাঁদ ঠাকুরের পূর্বনাম ছিলো।

sotero jagganath temple sotero

জগন্নাথ মন্দির বা সতেরো

জগন্নাথ মন্দির বা সতেরো রত্ন মন্দির অবস্থানঃ জেলাঃ কুমিল্লাসতেরো রত্ন মন্দিরটি কুমিল্লা জেলাশহর থেকে দুই কিলোমিটার দক্ষিন পূর্বে জগন্নাথপুর (খামার

Raozan Jagatpur Ashram

শ্রী শ্রী রাউজান জগৎপুর

শ্রী শ্রী রাউজান জগৎপুর আশ্রম অবস্থানঃ জেলাঃ চট্টগ্রাম উপজেলাঃ রাউজান রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সীমান্তবর্তী চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক থেকে উত্তর দিকে এবং চুয়েট ও

pundorik dham

শ্রী শ্রী পুণ্ডরীক ধাম

শ্রী শ্রী পুণ্ডরীক ধাম অবস্থানঃজেলাঃ চট্টগ্রামউপজেলাঃ হাটহাজারীমেখল গ্রামের অন্তর্গত।ইতিহাসঃদ্বাপরযুগে বৃন্দাবনের বৃষভানু মহারাজই এই কলিযুগে পুণ্ডরীক বিদ্যানিধি মহাশয়রুপে জন্মগ্রহণ করেছেন। তার

goshaldanga soshan kali bari

গোসাইলডাঙ্গা শ্রী শ্রী শ্মশান

গোসাইলডাঙ্গা শ্রী শ্রী শ্মশান কালী বাড়ী অবস্থানঃ জেলাঃ চট্টগ্রামউপজেলাঃ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকাবি. নাগ. লেইন, গোসাইলডাঙ্গা, বন্দর এলাকা ।ইতিহাসঃ১৯৫৮ ইংরেজীর (১৩৬৪

medos moni ashram

শ্রী শ্রী চন্ডীতীর্থ মেধস

শ্রী শ্রী চন্ডীতীর্থ মেধস মুনির আশ্রম অবস্থানঃজেলাঃ চট্টগ্রাম উপজেলাঃ বোয়ালখালীচট্টগ্রামের কালুরঘাট ব্রীজ পার হয়ে বোয়ালখালী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮

mehar kali bari

শ্রী শ্রী মেহার কালিবাড়ি

শ্রী শ্রী মেহার কালিবাড়ি অবস্থান: জেলা:  চাঁদপুর উপজেলাঃ  শাহরাস্তি উপজেলা মেহার নামক এলাকায় অবস্থিত। ইতিহাসঃ বাংলাদেশের একটি প্রসিদ্ধ স্থান হলো

Chatteshwari kalibari

শ্রী শ্রী চট্টেশ্বরী কালীমাতা

শ্রী শ্রী চট্টেশ্বরী কালীমাতা মন্দির অবস্থানঃ জেলাঃ চট্টগ্রামউপজেলাঃ চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন এলাকাইতিহাসঃ চট্টেশ্বরী কালী মায়ের বিগ্রহ মন্দিরটি প্রায় ৩০০-৩৫০ বছর পূর্বে

শ্রী শ্রী কালভৈরব নাটমন্দির

শ্রী শ্রী কালভৈরব মন্দির ও বিগ্রহ অবস্থানঃ-জেলাঃ ব্রাহ্মণবাড়ীয়াউপজেলাঃ সরাইলইতিহাসঃ- ব্রাহ্মণবাড়ীয়া শহরের উত্তর সীমানায় তিতাস নদীর পশ্চিম পার্শ্বে মেড্ডা গ্রামের একটি

Koibollodham

কৈবল্যধাম

শ্রীশ্রীকৈবল্যধাম আশ্রম   অবস্থানঃ চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের কর্নেলহাটের কাছে, ফিরোজ শাহ কলোনি শহরঃ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন জেলাঃ চট্টগ্রাম প্রতিষ্ঠান কালঃ  ১৯৩০-এর ২৬শে

adinath mandir

আদিনাথ মন্দির

শ্রী শ্রী আদিনাথ মন্দির গ্রামঃ গোরকঘাটা ইউনিয়নের ঠাকুরতলা গ্রামে উপজেলাঃ মহেশখালী জেলাঃ কক্সবাজার প্রতিষ্ঠান কালঃ আদিনাথের গোড়াপত্তন কয়েক হাজার বৎসর

Spread this post
Translate »
error: Content is protected !!